logo
  • ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা আপডেট

  •     গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু ৩৯ জন, আক্রান্ত ২৯০৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ২০৬২ জন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে নিবন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ
|  ২৫ জুলাই ২০২০, ০০:০১ | আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ১৩:১৯
বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অংশ যদি এই দেশের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে তবে সেটা নিশ্চিতভাবেই প্লাস্টিক শিল্প। বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) জানিয়েছে, এই খাতটি বছরে প্রায় ২০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০১৭ সাল নাগাদ এই খাতের পরিধি দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। স্থানীয় পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি ব্যক্তি গড়ে ২ কেজি প্লাস্টিক কনজিউম করে। যেটা ভারতে ৬ কেজি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ৪০ কেজি।

আন্তর্জাতিকভাবে ফিল্ম প্লাস্টিক, গৃহস্থালীর আইটেম এবং গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিসের রপ্তানি উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চীন, ভারত ও নেপালে প্রতি বছর ৩১ শতাংশ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বৈশ্বিক প্লাস্টিকের ৫৪৬ বিলিয়ন মার্কেটের মাত্র ০.৬ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে। তবে বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা মোরশেদ আলম এমপি এবং এই খাতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব তার দক্ষতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই শিল্পের পাশাপাশি পুরো অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার মিশনে নেমেছেন।

ভাড়া করা একটি দোকানে সিঙ্গল হ্যান্ড-ড্রিভেন মোল্ডিং মেশিন দিয়ে ১৯৬৯ সালে এই মিশন শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে উন্নতি করতে থাকে তার প্রতিষ্ঠান। তার প্রতিষ্ঠান ক্লোথ হ্যাঙ্গার, প্যাকেজিং, হাউজওয়্যার এবং হোম ফার্নিশিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করে। এছাড়া নির্মাণ, ইলেকট্রনিকস, ফুড প্রোসেসিং, জ্বালানি, হসপিটালিটি এবং গণমাধ্যম শিল্পেও (বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেড, আরটিভি) সক্রিয় রয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ।

সবশেষ ২০১৮ সালে বেঙ্গল সিমেন্ট বাজারে আনে প্রতিষ্ঠানটি। এটি বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্নতমানের সিমেন্ট তৈরি করছে তারা। এশিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশ্বমানের কাঁচামাল সংগ্রহের কৌশলের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। প্রতি বছর ১.৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন উন্নতমানের সিমেন্ট উৎপাদন করতে পারে বেঙ্গল সিমেন্ট।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রও বদলে ফেলেছেন মোরশেদ আলম। ১৯৯৯ সালে তিনি ২০ একর জমির ওপর ১২০,০০০ স্কয়ারফিট প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটিতে ৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। ওই প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটিতে বেশ কয়েকটি স্টেট-অব-দ্য আর্ট ইনজেকশন মডিউল মেশিন, ফিল্ম এক্সট্রুডার মেশিন এবং প্রিন্টিং ও ক্লথ হ্যাঙ্গার, পলিব্যাগ, প্যাকেজিং টেপ ও স্ট্র্যাপিং তৈরির জন্য কনভার্টিং মেশিন রয়েছে। পরের বছর তিনি একটি চীনা প্লাস্টিকের কারখানাও অ্যাকুইয়ার করেন এবং এর সঙ্গে আরও ১২টি ইঞ্জেকশন মোল্ডিং মেশিনও কেনেন।

এখন গ্রুপটির অধীনস্থ কোম্পানিগুলো বিস্কুট থেকে শুরু করে কাপড় এবং ওভেনের বস্তার পাশাপাশি প্লাস্টিকের পণ্য তৈরি করে থাকে। মোরশেদ আলম বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের মাধ্যমে এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আমি কখনও মান নিয়ে কম্প্রোমাইজ করি না।

অন্যান্য অনেকের মতো, বেঙ্গল গ্রুপও তাদের পণ্য পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে চাপে রয়েছে। তবে দাতব্য খাতের কিছু সংস্থা বলছে, প্লাস্টিকের বালতিতে পানি বহন করতে পারাটা অনেক দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায়ের জন্য পুরস্কার স্বরূপ। 

সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া মোরশেদ আলম বলেন, প্লাস্টিক বায়োগ্রেড না হওয়া নিয়ে প্রচুর সমস্যা আছে এবং ইউরোপ বা আমেরিকায় রপ্তানি করতে চাইলে অনেক বিধিনিষেধও মেনে চলতে হয়। আমরা আমাদের সব পণ্য কঠোরভাবে পরীক্ষা করি এবং আমরা টেকসই জিনিস বিক্রি করার চেষ্টা করি। এ কারণেই আমরা সফল রপ্তানিকারক।

যদিও অদূর ভবিষ্যতে গ্রুপটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে প্লাস্টিকই থাকবে বলে মনে হচ্ছে, মোরশেদ আলম টাকা ব্যয় করতে এবং যেখানে চাহিদা আছে সেখানে ব্যবসার সুযোগ সন্ধানে প্রস্তুত রয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, দুই বছর আগে তিনি বাংলাদেশের রাজধানীতে একটি ৩৫০ কক্ষ বিশিষ্ট হোটেল নির্মাণের জন্য সুইসটেল গ্রুপের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। আন্তর্জাতিক ফিনান্স করপোরেশন ও নেদারল্যান্ডস ডেভলপমেন্ট ফিনান্স সংস্থার ঋণের অর্থায়নে নির্মিতব্য সুইসটেল ঢাকার রুমের আকার হবে সর্বনিম্ন ৩৮ স্কয়ার মিটার এবং অতিথিদের জন্য ছয় রেস্তোঁরা ও বার, সেই সঙ্গে ৯৫০ স্কয়ার মিটার ইভেন্ট স্পেস ও একটি স্পা থাকবে। এটি ২০২১ সালে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যদি মোরশেদ আলম এ জাতীয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে যান, তবে এটি একটি নিশ্চিত লক্ষণ যে ঢাকা একটি আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হয়ে উঠছে। যদি কেউ এই হোটেলে থাকতে চান তাহলে তিনি এই ভেবে আত্মবিশ্বাসী হতে পারবেন যে, নকশা ও সুযোগ-সুবিধায় কোনও কমতি রাখেননি মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, আমরা ক্রেতামুখী কোম্পানি। আমরা পণ্য বিক্রি করি না, আমরা সমাধান বিক্রি করি। আমরা আপনাকে আপনার অর্থের মূল্য দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
এ/পি
 

RTVPLUS
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ২৬০৫০৭ ১৫০৪৩২ ৩৪৩৮
বিশ্ব ২০০৩৬৪৭২ ১২৯০৭৫২৯ ৭৩৪১৮১
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • অর্থনীতি এর সর্বশেষ
  • অর্থনীতি এর পাঠক প্রিয়